Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

অফিস পরিচিতি

ক) সাধারণ পরিচিতি

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বি.আর.ডি.বি) পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে নিয়োজিত দেশের বৃহত্তম সরকারী প্রতিষ্ঠান। গ্রাম ভিত্তিক সমবায় প্রতিষ্ঠান গঠন এবং এসব সমবায় প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উন্নয়ন সহায়ক প্রশিক্ষণ, ঋণ সরবরাহ ও সেচ প্রযুক্তি সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি  প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে ষাটের দশকে উদ্ভাবীত কুমিল্লা পদ্ধতির দ্বিস্তর সমবায় পদ্ধতি ১৯৭২ সনে দেশ ব্যাপী সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী (আই.আর.ডি.পি) নামে চালু করা হয়। আই.আর.ডি.পির প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং কর্মসূচী টেকসই উন্নয়নের জন্য ১৩ই ডিসেম্বর/১৯৮২ সালে এক অর্ডিন্যান্স জারীর মাধ্যমে আই.আর.ডি.পিকে বি.আর.ডি.বিতে রূপান্তর করা হয়। কৃষি প্রবিদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি দারিদ্র নিরোসন ও মহিলাদের ক্ষমতায়ন বিষয়টি জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সাথে যুক্ত হওয়ায় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বি.আর.ডিবির কার্যক্রমের ধারা পর্যায়ক্রমে পরিমার্জিত ও সম্প্রসারিত হচ্ছে। কৃষি প্রবিদ্ধি অর্জনে আই.আর.ডি.পি সূচীতে কার্যক্রমের ধারাবাহিক, সময়োপযোগী ও টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের পরিবর্তিত উন্নয়ন কৌশলের সাথে সংগতি রেখে বি.আর.ডি.বি বর্তমানে বহুমাত্রিক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেছে যা নিম্নরূপ :

ক.

১) দ্বিস্তর সমবায়ের মাধ্যমে স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশ কৃষি উৎপাদন তরান্বিত করা;

২) কর্মস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র নিরোসন ও নারীর ক্ষমাতায়ন;

৩) প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়ন।

খ) দপ্তর প্রধানের পদবী :

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার

উপজেলা পর্যায়ে বিআরডিবির কার্যধারা :

 

বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে বি.আর.ডি.বি দুইটি কার্যধারা অনুসরণ করে কাযৃক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হচ্ছে-

ক)      আনুষ্ঠানিক/সমবায় ভিত্তিক কার্যক্রম : সমবায় আইন ও বিধির অনুসরণ পূর্বক সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে এ ধারায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যেমন- কৃষক সমবায় সমিতি, মহিলা সমবায় সমিতি বিত্তহীন সমবায় সমিতি।

 

খ)      অনানুষ্ঠানিক/দলভিত্তিক কার্যক্রম :

         পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র দূরীকরণের সংগে সম্পর্কিত সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ণ প্রকল্প/কর্মসূচী বি.আর.ডি.বি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ সকল প্রকল্প/কর্মসূচী বিভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে যাতে নির্ধারিত টার্গেট গ্রুপ অতি সহকে সরকারী সুবিধা গ্রহন করে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারে। যেমন পল্লী প্রগতি প্রকল্প সমন্বিত দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী ইত্যাদি।

 

মূল কর্মসূচী :

         বিখ্যাত কুমিল্লা মডেলকে অনুসরণ পূর্বক দ্বি-স্তর সমবায় ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় পল্লীর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের সংগঠিত করে সংগঠনের মাধ্যমে তাদেরকে মূলধন গঠন অব্যাহত ঋণ সরবরাহ, নিবিড় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে দেশে স্থায়ী খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টিতে অবদান রাখা বিআরডিবির মূল কর্মসূচীর মূখ্য উদ্দেশ্য। ক্ষেতলাল উপজেলা ৫টি ইউনিয়নে ১২২টি কৃষক সমবায় সমিতি (কেএসএস) গঠনের মাধ্যমে উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীতে বিশাল এক সমবায়ভিত্তিক সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয়েছে।

 

আবর্তক ঋণ কর্মসূচী :

         সরকার কর্তৃক ঘোষিত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সাময়ী কৃষকদের ব্যাংক মাধ্যম থেকে ঋণ বিতরণ সম্পন্ন হয়ে যায়। এরূপ অবস্থায় সমবায় কার্যক্রম ব্যাপক ভাবে বিঘ্নিত হয়। কৃষক সমবায় সমিতি গুলোর ঋণের চাহিদা পূরণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নীতি নির্ধারণ পর্যায়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে দারিদ্র বিমোচন কৌশল পত্র বাস্তবায়নে ২০০৩-২০০৪ অর্থ বছর থেকে রাজস্ব বাজেটের আওতায় ‌‌"গ্রামীণ অঞ্চলে বিতরণের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ তহবিল'' শিরোনামে বিআরডিবির নিজস্ব ঋণ কার্যক্রম শুরু হয়, যা বিআরডিবির একটি বড় অর্জন। ফলে ঋণ তহবিল প্রাপ্তিতে ব্যাংক নির্ভরতা কমে এসেছে এবং ঋণ তহবিলের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগী ব্যাংক না থাকাতে সুদের হারও কমেছে। ২০০৩-২০০৪ অর্থ বছর থেকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আওতায় রাজস্ব বাজেট থেকে আবর্তক ঋণ তহবিল (কৃষি) বাবদ ৩৭.৫০ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে যা ৪% প্রবৃদ্ধিসহ বর্তমানে ৪৩.৫৩ লক্ষ টাকায় উত্তীণৃ হয়েছে।